একটি একাডেমিক লেখা প্রকাশের পাঁচালি

২৬ জুলাই, ২০১৯ তারিখে ওয়েব অব সায়েন্স, স্কোপাস, সিম্যাগো, ইবিএসকো, প্রোকোয়েস্ট, ক্যাবি, এবং কেমিক্যাল এবসট্র্যাক্ট ইনডেক্সড জার্নাল “গ্লোবাল জার্নাল অব এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি এন্ড ম্যানেজমেন্ট” (GJESM) — বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আমার ছাত্রবৎ প্রিয় নূর-ই-আলমের মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত স্প্রিংগার প্রকাশনী থেকে ৩০ মার্চ, ২০২০ তারিখে প্রকাশিতব্য “REMOVAL OF CHROMIUM FROM LAND AND WASTEWATER AROUND TANNERY INDUSTRIAL BELT” শীর্ষক বইয়ে — আমাদের কজন (আমার অত্যন্ত প্রিয় ছাত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টটাইম শিক্ষক এবং পিএইসডি শিক্ষার্থী আবু সাইদ মিয়া, নূর-ই-আলম এবং বুয়েটের পুর কৌশল বিভাগের শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক মফিজুর রহমান স্যার এবং আমি ফরিদ আহমদ) কে একটা অধ্যায় লেখার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। সে মোতাবেক আমরা কাজ শুরু করি। নূর এবং সাইদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ফার্স্ট ড্রাফট তৈরী করে শ্রদ্ধেয় মফিজুর রহমান স্যারের নির্দেশে আমার কাছে এডিটিং এর জন্য জমা দেয়।
আমার অফিস কক্ষে কয়েক দিন নিয়মিত সন্ধ্যা ছয়টার পর আমরা তিনজন মিটিং করি। নূর এবং সাইদকে প্রচুর কারেকশনের পরামর্শ দেই। তারা দুজনে কঠোর পরিশ্রম করে আমার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ শেষ করে পুনরায় আমার কাছে কারেক্টেড ড্রাফট জমা দেয় । “এবার আমি ফাইনাল এডিটিং করব। প্রয়োজনে যোগাযোগ হবে।” এই বলে তাদেরকে অবকাশ দেই ।
এরপর অনেক দিন কেটে যায়। অসুস্থতা জনিত কারনে পরিচালক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে প্রায়ই অফিসে দেরিতে যাই। সকাল এগারোটা বারোটার দিকে গেলে অন্তত রাত ১০(দশ) টার আগে অফিস থেকে বাসায় ফিরি না। অফিসের টুকিটাকি ইত্যাদি কাজ করেই অনেক সময় চলে যায়। তাছাড়া পরিচালক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমাকে দেখাশুনা করতে হয়। এরপর সম্মানিত শিক্ষক কলিগদের সাথে হইহল্লা করি। বয়সে সবাই আমার ছোট হলেও বন্ধুর মতো একসঙ্গে আড্ডা দেই। গল্প গুজব করে মজা পাই। সচারচর আমি অনেক বেশি কথা বলি। তবে মাঝে মাঝে ভয় হয় পাছে কলিগরা বিরক্ত হয় কি না এই ভেবে। সাপোর্ট স্টাফ কলিগদের প্রায় সব অফিসিয়াল কাজে আমাকে অংশগ্রহন করতে হয়। তারা ইতস্তত করলেও আমি মাঝে মাঝে তাদের রুমে গিয়েও আড্ডা দেই। তুমুল আড্ডা প্রিয় মানুষ আমি। এভাবে প্রতিদিন সকাল-দুপুর-বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে। সন্ধ্যার আগে নিজের কাজ করার স্কোপ (সুযোগ) পাওয়া খুব মুশকিল।
আমার তরফ থেকে কোন প্রকার সাড়া না পেয়ে মাঝে মাঝে সাইদ ফোন দিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলে, “স্যার, কাল নূর স্যারের সাথে কথা হলো। আপনার স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিয়েছেন।” উত্তরে বলি, “সাইদ, শরীর খুব খারাপ যাচ্ছে। এখনও হাত দিতে পারি নাই।” গত বছরে অসুস্থতার জন্য অনেকদিন ছুটিতে ছিলাম। প্রায় ছ’মাস আমার পক্ষে হেঁটে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আল্লাহর অশেষ রহমতে জুন, ২০১৯ থেকে আবার চলতে চেষ্টা করি। এবং সেই সময় থেকে প্রতিমাসে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকার ওষুধ খাচ্ছি। সাইদ প্রায়ই লাস্ট ডেইট অব সাবমিশন অর্থাৎ জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর, ২০১৯ এর কথা মনে করিয়ে দেয়। অবশেষে আল্লাহর নাম নিয়ে একদিন সন্ধ্যা গড়িয়ে অনেকটা রাত নামলে এডিটিং এর কাজ করতে শুরু করি।
ছুটির দিন সহ একটানা ১৫ (পনের) দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু করে প্রায় রাত ১ (এক) টা পর্যন্ত অফিসে থেকে প্রায় ৩০ (ত্রিশ) পৃষ্টার একটা বুক চ্যাপটারের প্রতিটি শব্দ, বাক্য, অনুচ্ছেদ, চিত্র, সারণি, তথ্য, উপাত্ত ঠিক আছে কি না দেখি। ম্যানুস্ক্রিপ্টের টোটাল স্ট্রাকচারটা পুনর্বিন্যাস করে নতুন ভাবে সাজাই। এবং প্রতিদিন এই কাজে সাইদ এবং নূরের কাছ থেকে ফোনে সাহায্য নেই। আমার অফিস কক্ষটা বুয়েটের এক শান্ত, নিরিবিলি প্রান্তে অবস্থিত। পুরো সবুজে ঘেরা। বুয়েটের চৌদ্দ তলার নতুন ছাত্রী হলটা না হলে আমার অফিস রুমের চারপাশের বাগানটাকে ছোট খাট একটা অরণ্য বললে অত্যুক্তি হবে না। অফিস কক্ষটা সময়ে সময়ে নির্মাণ ত্রুটি এবং বার্ধক্য জনিত কারনে বেশ বাস অযোগ্য হয়ে গেলেও একজন বৃক্ষপ্রেমী হিসাবে আমি রুমটি ছাড়িনি। এ রুমে দিনের বেলায় বসে প্রকৃতির সৌর্ন্দয অবলোকন করে একাডেমিক লেখার চেয়ে গল্প কবিতা লেখা সহজ বলে আমার মনে হয়। অবহেলিত একটা রুমকে আমি অনেক চেষ্টা করে বুয়েটের প্রকৌশল অফিসের প্রিয় কলিগদের সহযোগিতায় বাস যোগ্য করি। এখনো বারে বারে সংস্কার করাই। সম্মানিত সিনিয়ির শিক্ষকদের কেউ কখনো কোনো কারনে আমার রুমে আসলে ডুকেই বলবে, “ফরিদ/ফরিদ সাহেব, তোমার/আপনার রুমটা অনেক সুন্দর। চারদিকটা আরো সুন্দর। খুব ভাল লাগে আপনার রুমে আসলে।”
তবে আগে কখনো মধ্যরাত পর্যন্ত এ রুমে এ ধরনের নির্জনতায় একাকী কাজ করিনি। অবশ্য, অনেকে মিলে রাত দুটা চারটা পর্যন্ত অফিস করার অনেক দিনের অভিজ্ঞতা আছে আমার ঝুলিতে। ভূতে ভয় নেই আমার। তবে একাকী ঐ অরণ্যে ঐ সময়টাতে কখনো কখনো বনের বাঘের চেয়ে মনের বাঘের ভয়ে আমার গা ছমছম করেছে। মন কু ডেকেছে। মাথায় আবোল তাবোল চিন্তা এসেছে। বারেবারে সামান্য শব্দ শুনে চমকে উঠতে হয়েছে। অবশ্য প্রত্যেকবারই সাহস সঞ্চয় করে আবার লিখতে শুরু করেছি। ভবনের চারপাশের লাইট ও করিডোরের লাইটের আলোর সমন্বয়ে মনে হচ্ছিল কোন একট ছায়া যেন রুমের প্রায় ভেজান দরজা দিয়ে উকি মেরে আমাকে দেখে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। পনেরটা জানালার বন্ধ কাঁচের পাল্লার কোনটা দিয়ে কেউ একজন উকি দিচ্ছে। আমিও হরর মুভি দেখার মতন মজা পাচ্ছিলাম। আমার এ ভূমিকা — “বাসায় জলদি ফিরে এসেও তো কাজটা করা যেত? — প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সত্যিটা হচ্ছে, অফিস শেষে বাসায় ফিরে শাওয়ার নিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করে। অতপর খাওয়া শেষে দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখতে আমি বেশ স্বচ্ছন্দ বোধ করি। একাডেমিক লেখা-লেখির মতো সিরিয়াস কাজ করতে কেন জানি একদমই পারি না।
অবশেষে অনেক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে লেখাটা শেষ করি। নূরের এমএসসি গবেষণা অভিসন্দর্ভের (থিসিস) সুপারভাইজর ছিলেন মফিজুর রহমান স্যার। আনন্দের বিষয় এই যে, শ্রদ্ধেয় মফিজুর রহমান স্যার আমার এডিটেড ড্রাফটা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখে নূরকে সাবমিট করে দিতে বললেন। একজন গুনী অধ্যাপকের এরকম আস্থা অর্জনে সত্যিই নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হয়। একজন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে আমি ভীষণ ভাবে অনুপ্রাণিত হই। আল্লার মেহেরবানীতে সময় শেষ হওয়ার দুদিন আগে আমরা ম্যানুসক্রিপ্টটা সাবমিট করতে সমর্থ হই।
১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে রিভিউয়ারের কমেন্ট সহ এক্সিকিউটিভ এডিটরের কাছ থেকে — “Should the reviewers and editor be satisfied with your amendments, you will be notified the acceptance of your manuscript for publication.” —এ রকম মন্তব্য সহ মেইল পেলাম। দুজন রিভিউয়ারের একজন মাইনর কারেকশন এবং অপরজন মেজর কারেকশন দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তিনি ম্যানুস্ক্রিপ্টটির মেজর কারেকশন প্রয়োজন বলে মত দেন।
কারেকশনের বিশাল লিস্ট। হাতে মাত্র ১০ (দশ) দিন সময়। একটু ধাতস্ত হয়ে বুঝতে পারলাম মেজর এবং মাইনর সবগুলো কারেকশনই আমাদের বেশ আয়ত্তের মধ্যে আছে। সামান্য কিছু কাজ করতে হবে। ম্যানুস্ক্রিপ্টের কাঠামোটা আরেকটু মজবুত করতে হবে। নূরকে কল দিয়ে বলি, “আমি তীব্র অসুস্থ। কঠিন স্নায়বিক সমস্যা হচ্ছে। তবে দু এক দিন কাজ করতে পারলে কারেকশন গুলো শেষ করা সম্ভব হবে। সবকিছু আমাদের ম্যানুস্ক্রিপ্টে আছে। শুধু একটু এদিক-সেদিক করতে হবে। তারপর আমি শীতকালীন অবকাশ ছুটিতে দেশের বাড়িতে যাব। সঙ্গে ল্যাপটপ নিয়ে যাব। তবে বাসায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ নেই। মোবাইলে ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে কোনো রকমে কাজ চালান যাবে।”
কিন্তু ঐ সময়টাতে আমাদের সকলের কাছে হঠাৎ করেই নানা রকম ঝুট-ঝামেলা এসে জুটে গেল। সাইদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ভাবে নিয়োগ, নূরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার পদে পদোন্নতির পরীক্ষা ও অফিসিয়াল ট্যুর, শ্রদ্ধেয় মফিজ স্যারের দেশে অন্যান্য গবেষণার কাজ ও টোকিও ইউনিভার্সিটি ভিজিট এবং সর্বোপরি আমার তীব্র অসুস্থতা ও স্থানীয় ইন্টারনেটের দুর্বলতা সব মিলে তাল গোল পাকিয়ে গেল। নূরের সাথে কথা হলো। সে বলল ম্যানেজিং এডিটরের কাছে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করবে। আমি কিছুটা আশস্ত হলাম। কারন, আমার মতন নগন্য শিক্ষকের কাছে একটা একাডেমিক লেখা পাবলিস করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, আমরা আমাদের ইনস্টিটিউটে যে ধরনের গবেষণা করি তার সাথে সম্পর্কিত ভালো জার্নাল খুঁজে পাওয়া খুব দুস্কর।
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে সময় বৃদ্ধির পরিবর্তে ম্যানেজিং এডিটরর অধ্যাপক ড. শিবা কুমার — “Recently, your manuscript reviewing responses forwarded to you for your revision. However, I have not yet heard from you about this. This e-mail is simply a reminder for your on time action of the manuscript revision” — এই বলে আমাদেরকে তাগাদা পত্র দিলেন। অবশেষে সাইদ এবং নূর অনেক কষ্ট করে কিছুটা সময় ম্যানেজ করে শেষ দিনে কিছু কারেকশন করল। আমি খোঁজ-খবর নিলাম। বললাম, “শেষ করে আমাকে একটু পাঠিও। অন্তত চোখ বুলিয়ে দিতে চাই।” কিন্তু রাত পর্যন্ত খবর এল না। সাইদকে ফোন করতে বলল নূর স্যার পাঠাবেন।
পরের দিন ঢাকায় ফিরে আসি। বাসায় ঢুকে ওয়াইফাইয়ের কল্যাণে স্মার্ট ফোনের স্ক্রীনে ভেসে উঠে, —“Rejection of Manuscript”। হাতে থাকা ব্যাগটা রেখে নূরকে ফোন দেই। নূর কাচুমাচু করে বলল, “ স্যার, আমি কারেক্টেড ম্যানুসক্রিপ্টটা পাঠাতে যাচ্ছিলাম ঠিক সেই সময়ে মেইলটা আসে।” উত্তরে বললাম, “ঠিক আছে মন খারাপ করার দরকার নেই। বুক চ্যাপটারটা হলে ভাল হত। সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।” এই বলে ফোন রেখে দিই। কিছুক্ষণ মনে মনে হাপিত্যেশ করে এবারে ই-মেইল অ্যাকাউন্টে ঢুকে মেইলটা পড়লাম। বুঝতে পারলাম যে, ম্যানুসক্রিপ্টটা তাদের পছন্দের তালিকায় ছিল। কিন্তু খুব ভালো জার্নাল বলে প্রাপ্ত ম্যানুসক্রিপ্টের ১৬ (ষোল) শতাংশের বেশি বর্তমানে তারা ছাপাতে পারছেন না। তবে তারা এ লেখাটি GJESM এর partner journal “International Journal of Human Capital in Urban Management” এ ছাপাতে প্রস্তুত আছে।
নূরকে ফোন করে বিষয়টা বললাম। নূর বলল, “দেখছি স্যার, কী করা যায়।” সপ্তাহ খানেক পরে সাইদ থেকে নুরের খবর পেলাম। ওর একটু মন খারাপ আছে। অন্য সহকর্মীরা ইতিমধ্যে প্রমোশনের চিঠি পেয়ে গেছে। সে এখনও পায়নি। ওদিকে আবার নূরের ঘর আলো করে এক রাজকন্যা এসেছে। এর দু সপ্তাহ পরে নূর এবং সাইদ আমার অফিসে দেখা করতে আসে। “এত বড় একটা লেখা অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা উচিৎ না। চল, আমরা অন্য কোথাও এটা সাবমিট করে দিই। ম্যানুস্ক্রিপ্টটা যদিও আমাদের গাফিলতির জন্য রিজেক্টেড হয়, তবুও রিভিউয়ারদের কমেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।” এসব বলে দু’জনকে মটিভেট করার চেষ্টা করলাম। আলোচনা শেষে আমরা ম্যানুস্ক্রিপ্টটি Springer publications এর জার্নাল “ Applied Water Science” এ সাবমিট করার সিদ্ধান্ত নিলাম। বিশ বিশ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্য ভাগে আগের জার্নালের প্রদত্ত কারেকশন গুলোর সবকটি অ্যাড্রেস করে ম্যানুস্ক্রিপ্টটি সাবমিট করি। তবে ভয় ছিল বুক চ্যাপটার হিসাবে লেখা এত বড় ম্যানুস্ক্রিপ্ট সাধারণত অনেক জার্নাল ছাপাতে চায় না।
শুরু হল একই প্রক্রিয়া। এবারে অবশ্য অতি সামান্য কিছু কারেকশন দিল। আর কারেকশন করে জমা দেয়ার শেষ সময় দিল ৫ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত। কারেক্টেড ম্যানুস্ক্রিপ্ট সাবমিট করে দিলাম ডিউ টাইমের মধ্যেই। মার্চ মাসের মধ্যেই সারাবিশ্বকে করোনাভাইরাস গ্রাস করে নিল। আমরা সবাই তখন করোনার ভয়ে ঘরে লুকিয়ে রইলাম। মাঝে মধ্যে সাইদ নূরের সাথে কথা হয়। খোঁজ-খবরের পাশাপাশি এ বিষয়েও খবর নেই। কাজ চলে। এডিটরিয়াল টিম থেকে আরও কিছু কারেকশন আসে। সেগুলোও ঠিক করে সাইদ নূর পাঠায়। অত্যন্ত মেধাবী নূরের প্রমোশনের চিঠি আসে। সাইদ শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হয়। বিয়েতে উপস্থিত হতে পারিনি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তাই দূর থেকে শুভ কামনা করি। নূর একদিন আমাকে ফোন করে জানায়, “স্যার,অবশেষে আমাদের লেখাটা Springer এ accept হয়েছে। কাকতালীয় ঘটনা হচ্ছে যে, প্রায় ঠিক এক বছর পর ২৩/২৪ জুলাই, ২০২০ তারিখ ( আমরা ২৬ জুলাই, ২০১৯ তারিখে একটা বুক চ্যাপটার লেখার আমন্ত্রণ পাই) বিশ্বখ্যাত স্প্রিংগার প্রকাশনী তাদের জার্নালে আমাদের লেখাটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। মেইলটা খুলে দেখি বিষয় হিসাবে উল্লেখ আছে — “Your manuscript entitled An Overview of Chromium Removal Techniques from Tannery Effluent”। এডিটর ইন চিফ Dr. Saad A. Al-Jlil লিখেছেন, — “I am pleased to tell you that your work has now been accepted for publication in Applied Water Science.”। সত্যি সত্যি এবারে অ্যাকসেপ্টেন্স লেটার এসেছে। আমরা সকলে বেশ আনন্দিত হই। অনুপ্রাণিত হই শতাব্দীর নিষ্ঠুর উপাখ্যাননামা করোনা সৃষ্ট ভয়ংকর বৈশ্বিক মহামারি তথা প্যানডেমিকের মাঝেও। সকল প্রশংসা পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তায়ালার জন্য। আর ধন্যবাদ জানাই সকল কো-অথরদের। ম্যানুস্ক্রিপ্টটি তৈরি করতে নূর এবং সাইদ অমানুষিক পরিশ্রম করেছে। আল্লাহ পাক আপনি তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয়ই, তুমি সর্বোত্তম হেফাজতকারী। আমিন।